চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কোকদন্ডী ঋষিধামে এগারোদিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা শুরু হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার সাধু-সন্ন্যাসী-বৈঞ্চব, সংগীতশিল্পীরা আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে । পঁচিশ লাখ তীর্থার্থীদের সমাগমের জন্য ঋষিধামের নিজস্ব জায়গা ছাড়াও আশপাশের এলাকাজুড়ে এ মেলা ও ধর্মীয় উৎসব তেইশ জানুয়ারি শুরু হয়ে দুই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
জানা গেছে, গোটা আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা কমিটির সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন এবং সম্পূর্ণ এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সবকিছু সতর্কতার সাথে মনিটরিং করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য।
প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর শুভ ভৈমী একাদশী হতে মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই ধর্মযজ্ঞ এবার বাইশ তমো আন্তর্জাতিক ঋষি কুম্ভমেলা হতে যাচ্ছে। ২৩ জানুয়ারি সকালে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে উক্ত মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পুরো অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করবেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের প্রধান পৌরহিত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। এভাবে পরবর্তী দশ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেশ-বিদেশের সাধু, সন্ন্যাসী ও ভক্তদের জন্য টাঙানো হয়েছে শতশত অস্থায়ী ত্রিপল। যশোর, দিনাজপুর, ঢাকা, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা স্টল নিচ্ছেন। প্রতিবারের ন্যায় মেলায় আনা হবে কুটির শিল্প, কারু শিল্প, মৃৎশিল্প, খেলনার দোকান,পুতুলের দোকান, প্রসাধনী সামগ্রী, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্য সামগ্রীর দোকান।
বাঁশখালীর ঋষিধামে ঋষিকুম্ভ
ও কুম্ভমেলার সাধারণ সম্পাদক শ্রী চন্দ্র শেখর মল্লিক বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে কয়েকদফা বৈঠক করে তিরিশ লাখ তীর্থার্থীর মিলনমেলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য সার্বিক নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এগারোদিন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আট কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা, অতিথিশালার উদ্বোধন, শ্রী মদ্ভগবদগীতা পাঠ, ঋষিধ্বজা উত্তোলন, বেদমন্ত্র পাঠ, একশো আট দীপমণ্ডিত মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বালন, গুরু মহারাজের পূজা, দশমহাবিদ্যা পূজা, আন্তর্জাতিক ঋষি সম্মেলন, সনাতন ধর্ম সম্মেলন,সংগীতাঞ্জলি, রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরণসভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ, দেশি-বিদেশি ধর্মীয় শিল্পীদের নৃত্য ও গান, নাটক, গীতালেখ্য সহ যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠানের কর্মসূচি।
Информация по комментариям в разработке