আসুন আজ জেনে নিই কোন ধরনের খাবার আমাদের দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন মানব শরীরের অত্যন্ত জরুরি উপাদান। ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি জরুরি উপাদান গুলির অভাব আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে কমিয়ে দেয়।
সাধারনত- পুরুষদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ১৩০-১৮০ গ্রাম। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ১১৫-১৬৫ গ্রাম। এ ক্ষেত্রে পুরুষ কিংবা মহিলা যেই হোক যদি কারো হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রতি লিটারে ৭০ কিংবা ৮০ গ্রাম হয়ে যায় তবে সে ক্ষেত্রে মারাত্মক অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দেহের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, শ্বাস-প্রশ্বাস এর অসুবিধা, মাথাব্যথা, হৃদকম্প বেড়ে যাওয়া এবং খিদে না পাওয়া ইত্যাদি রক্তে হিমোগ্লোবিন কম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ।
ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি১২ ইত্যাদি জরুরি উপাদান গুলির অভাব আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে কমিয়ে দেয়।
আসুন আজ জেনে নিই কোন ধরনের খাবার আমাদের দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
১.ফলিক অ্যাসিড
ফলিক অ্যাসিড আমাদের রক্তে লোহিত রক্ত কনিকা তৈরী হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। সুতরাং হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার জন্য আমাদের ফলিক অ্যাসিড পূর্ণ খাবার খাওয়া জরুরি। আসুন দেখেনি কি কি খাবারে ফলিক অ্যাসিড থাকে।
প্রতিদিনের খাবারের সাথে সবুজ শাক সবজি খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমানে ফলিক অ্যাসিড থাকে। যা আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলে।
চিকেন লিভার, মটন লিভার, ব্রকলি, কলা, বাদাম, স্প্রাউট, এগুলি আমাদের দেহে ফলিক অ্যাসিড যোগান দেয়। ফলত শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে যে খাবার গুলি আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলে।
২.আয়রন
আয়রণের অভাব, আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আয়রন যুক্ত খাবার আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব পূরণ করে।
খেজুর, বেদনা, আপেল তরমুজ, আমলকি ইত্যাদি ফলগুলিতে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে।
এই ফলগুলি নিয়মিত খেলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে খুব সহজে বাড়িয়ে তোলা যায়। বিশেষ করে রোজ একটি করে আপেল বা বেদনা খেলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে কম হতে দেয় না।
ড্রাই ফ্রুটস যেমন কিসমিস, আলমন্ড, শুকনো খেজুর আয়রনের ভান্ডার। সুতরাং হিমোগ্লোবিন কম থাকলে এগুলি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পালংশাকে অফুরন্ত আয়রন থাকে। এটি শুধু আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে আমাদের দেহে ক্যান্সার সংক্রামনকেও রোধ করে।এছাড়া কুমড়োর বীজেও প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে।
১০০ গ্রাম কুমড়োর বীজ আমাদের শরীরে ৮৩% আয়রনের যোগান দিতে পারে। সুতরাং হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়িয়ে তোলার জন্য এই দুটি খাবারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া চিকেন লিভার,মটন লিভার,সী ফুড, টোফু, ব্রাউন রাইস, ব্রকলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে। তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এগুলি খাওয়া উচিত।
৩. ভিটামিন C
ভিটামিন C এর সাহায্য ছাড়া আমাদের শরীর পুরোমাত্রায় প্রয়োজনীয় আয়রন গ্রহণ করতে পারেনা। আর আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম মূল কারণ। তাই শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমানকে বাড়িয়ে তোলার জন্য ভিটামিন C যুক্ত খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্রকলি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, পালংশাক এগুলি প্রত্যেকটিতে ভিটামিন C থাকে। হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এগুলি হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
পাকা পেঁপে, কমলালেবু, পাতিলেবু, স্ট্রবেরী, আঙ্গুর এগুলি প্রত্যেকটি ভিটামিন C তে পরিপূর্ণ। হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে এগুলি খাওয়া উচিত।
৪. বীট
হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। বীট একটি সুপার ফুড। এতে পটাসিয়াম, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন প্রচুর পরিমানে থাকে। এটি আমাদের শরীরে লোহিত রক্ত কনিকার পরিমান বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৫. আপেল
দিনে একটি করে আপেল খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে পারেন। আয়রনের উৎস আপেলে আরও নানা প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন খোসাসহ একটি আপেল খান। অথবা সমানুপাতে আপেল ও বিটের রস মেশাতে পারেন।
৬. ডালিম
আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ ডালিম রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডালিমের জুস খান।
শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এইসমস্ত খাবারগুলি হিমোগ্লোবিনের অভাব পূরণ করে, তবে এমত অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ মতই খাবার ও প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া দরকার।
ভিউয়ারস এই ছিল আমার কাছে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত তা নিয়ে তথ্য।
Информация по комментариям в разработке