দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অন্যতম একটি উপজাতি সমাজের সংকটের তার দুর্বার জাতাকল এর মত স্বভাবের স্থবিরতা। সেই বস্ত্র সংকটের দিনে দেবীদাসের ভূমিকা একজন লোভী স্বার্থপর ঝানু বস্ত্র ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে তার দোকানে বসে তার ভাইপো গৌরদাস। একজন নাছোড়বান্দা অত্যন্ত অভাবী মানুষ দুচোখে জল ভাসিয়ে বারবার একজোড়া কাপড় এর জন্য শুধু মান ইজ্জত বাঁচাতে কাতর আবেদন জানাতে থাকে। কিন্তু দেবিদাস তাকে কাপড় না দিয়ে তার প্রতি বিরক্ত হয়ে মনে মনে লাথি মারতে চায়।
একটি ছোট গ্রামের লাগোয়া ছোট বন্দর সেই জায়গায় বড় ব্যবসায়ী দেবীদাস। থানায় যাত্রা বসার জন্য শচীকান্তবাবু থানার দারোগা দেবীদাসের কাছে ৫০ টাকা চাঁদা চেয়ে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখানে দেবীদাসকে সেই ৫০ টাকা দিতে হলো।
যাত্রার আসরে আসে দেবিদাস। যাত্রা স্থানে আলোর অস্বাভাবিক দীপ্তি চোখে পড়ার মতো, অথচ চারপাশে সংসারী মানুষদের আছে কেরোসিনের তীব্র অভাব। আলো না থাকায় শেয়ালরা সুযোগ বুঝে অন্ধকারেই বেড়া ভেঙে ছেলে চুরি করে নিয়ে খায়, তার অভুক্ত মাথা পড়ে থাকে বাড়ির বাইরে। যাত্রার দর্শক তাদেরই কালো কালো গরিব মানুষের দল। দারোগার উৎসাহেই এই অনুষ্ঠান।
যাত্রা শেষে দেবীদাস ভাইপো গৌরদাসকে নিয়ে বাড়ির পথে ফেরে। কিন্তু মাঝপথে মনে পড়ে যায় দরিদ্র লক্ষণ মুচিকে পাঠানো দু'জোড়া জুতোর কথা। কি অবস্থা করেছে তা জানতে এর বাড়ি আসে। হঠাৎ চোখে পড়ে ঘাটের দিক থেকে জল বয়ে আনা এক সম্পূর্ণ নগ্ন ষোড়শী। 'কোন খানে একফালি কাপড় নেই- কাপড় পাবার উপায় নেই' ফিরে আসে ওরা দুজন, কারণ এক নারী কন্ঠ বলে সে বাড়ি নেই।
গৌরদাসের মনে প্রশ্ন- এই কুরুক্ষেত্রের মতো পৃথিবীতে দুঃশাসনে বিবস্ত্র বাংলার প্রায়শ্চিত্ত রক্তপাতের মধ্য দিয়ে হবে কিনা কোনদিন! দেবীদাসের ভিতরে সন্ত্রস্ত চোখে পড়ে ফসলহীন রিক্ত মাঠের আল দিয়ে একদল লোক কাজ করতে চলেছে - তাদের ধারালো হেঁসেগুলোতে সূর্যের আলো ঝিকিয়ে উঠছে। কেন হেঁসেতে শান দেয় ওরা? এই জিজ্ঞাসার ভেতর দিয়েই 'দুঃশাসন' গল্পটি শেষ হয়ে যায়।
লেখক পরিচিতি: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা) বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার পৈতৃক নিবাস বরিশালের বাসুদেব পাড়া গ্রামে। তার শিক্ষাকাল কাটে দিনাজপুর, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতায়। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং ডক্টরেট ডিগ্রি নেন ১৯৬০ সালে। এরপর তিনি জলপাইগুড়ি কলেজ, সিটি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছাপা হয় মাস পয়লা শিশু মাসিকে। সন্দেশ, মুকুল, পাঠশালা, শুকতারা প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন। সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় সুনন্দর জার্নাল লিখে সুখ্যাতি অর্জন করেন। বাঙালির জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, রোজকার সমস্যা ও রাজনীতি নিয়ে লেখা নিয়মিত এই জার্নাল অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল বাঙালি পাঠকের কাছে। এ সময় তিনি বড়দের জন্য আনন্দবাজার, বিচিত্রা, শনিবারের চিঠি ও চতুরঙ্গে লেখালেখি করেন। তার সাহিত্য জীবন শুরু হয় কাব্যচর্চা দিয়ে। পরে তিনি গল্প-উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। বড়দের জন্য রচিত প্রথম প্রকাশিত ‘উপনিবেশ’ ছাপা হয় মাসিক ভারতবর্ষে। ওটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে। তার উপন্যাস-গল্প রচনার অনুপ্রেরণা যোগান উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, সুধাংশুকুমার রায় চৌধুরী, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, মন্মথ সান্যাল, সজনীকান্ত দাস ও ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর খ্যাতি বড়দের জন্য রচিত উপন্যাস ও গল্পের জন্য। কিন্তু শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনায় তার খ্যাতি বড়দের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। টেনিদা তার অনন্য সৃষ্টি। এছাড়াও শিশুদের জন্যে অজস্র ছোটগল্প লিখেছেন। তার রচিত পদ্মপাতার দিন, পঞ্চাননের হাতি, লালমাটি, তারা ফোটার সময়, ক্যাম্বের আকাশ, বাংলা গল্প বিচিত্রা, ঘণ্টাদার কাবলু কাকা, খুশির হাওয়া, কম্বল নিরুদ্দেশ, চারমূর্তির অভিযান, ঝাউবাংলার রহস্য ও ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যে নতুন সংযোজন।
বড়দের জন্য রচিত তার উলেস্নখযোগ্য বইগুলো হলো: একতলা, কালা বদর, কৃষ্ণপক্ষ, গন্ধরাজ, পন্নন্তর, ট্রফি, তিমির তীর্থ, দুঃশাসন, গদসঞ্চার, বনজ্যোৎন্সা, বিদিশা, বীতংস, বৈতালিক, ভাঙাবন্দর, চন্দ্রমুখর, মহানন্দা, রামমোহন, শিলালিপি, শ্বেতকমল, সাগরিকা, স্বর্ণ সীতা, সূর্যসারথী, সঞ্চারিণী, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, সাপের মাথায় মণি, আশিধারা, ভাটিয়ালী, আগন্তুক, অমাবস্যার গান, বিদুষক, সাহিত্যে ছোটগল্প, বাংলা সাহিত্য পরিচয়, ছোটগল্পের সীমারেখা ও কথাকোবিদ রবীন্দ্রনাথ। তিনি ছোট গল্প বিষয়ে ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ৬ই নভেম্বর ৫৩ বছর বয়সে মারা যান।
#Bangla_Literature
#Bangla_Short_Stories
#Bangla_Audio_Book
#Bangla_Audio_Stories
★★★★★★★★★★★
এরকম আরও সুন্দর সুন্দর গল্পপাঠ, কবিতা আবৃত্তি, বুক রিভিও, উপন্যাস আলোচনা, প্রবন্ধ পাঠ, গীতিকাব্য পাঠ সহ বাংলা সাহিত্য এবং ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয় সহজবোধ্য ভাবে সবার আগে পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল বাটনটি অন করে আমাদের পাশে থাকুন।
★★★★★★★★★★★
☑ রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের জনপ্রিয় সব গল্প শুনুন- • গল্পগুচ্ছ।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
☑ বাংলা সাহিত্যের সুন্দর সুন্দর সব ছোটগল্প এখানে- • বাংলা ছোটগল্প
☑ স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছোটগল্পসমূহ- • ছোটগল্প।। স্নাতক চতুর্থ বর্ষ।। বাংলা বিভাগ
☑ স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছোটগল্পসমূহ- • ছোটগল্প।। স্নাতক তৃতীয় বর্ষ।। বাংলা বিভাগ
Информация по комментариям в разработке