আজ এক মেটামরফিসের গল্প। রুপান্তরের কিসসা। কর্পোরেশন নির্বাচন, ভবানীপুরে কর্পোরেশনের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চলছে, বিধানসভা ভোটের প্রচার, প্রচারের মুখ ইন্দ্রনীল সেন, কলকাতা টিভির জন্য ভোটের সেনাপতি বা ঐ রকম একটা অনুষ্ঠানের জন্য আমিও সেখানে হাজির, ইন্দ্রনীল আমাকে সেদিন বলেছিলেন, অভিষেক ব্যানার্জি আসছেন, কথা বলে যেও, কিছুক্ষণ পরে তিনি মানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হলেন, মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অসম্ভব এক লাল্টুস চেহারা, বাচ্চা ছেলে, বুঝলাম কেবল পিসিমণির ভাইপো বলেই দলে এসেই নেতা হয়েছে। কিছুক্ষণ ছিলাম, কর্মীদের ওনাকে খুব বেশি উত্তেজনাও ছিল না, বরং ইন্দ্রনীল সেন একজন সেলিব্রিটি হিসেবেই উত্তাপ নিচ্ছিলেন। কাট টু আমতলা তৃণমূল দল এর দপ্তরের বাইরে, সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে, শোনা গেল এ বি আসছে, এ বি আসছে। হ্যাঁ স্লিম ট্রিম এক যুবক, সাদা জামা, সম্ভবত জিনস, এসে হাজির হলেন। কদিন আগে ৫০ তা পুশ আপ করে শারিরীক সক্ষমতা জানিয়ে দিয়েছেন, হ্যাঁ ২০১১ থেকে ২০২৬, ১৫ বছরে তিনি অভিষেক ব্যানার্জি থেকে এ বি হয়ে গেছেন। হ্যাঁ খেয়াল করুন এ বি। কোথায় এরকম সম্বোধন শুনেছেন? বিজেপিতে? এল কে এ লালকৃষ্ণ আদবানি, বা এবিবি, অটল বিহারি বাজপেয়ি, বা ধরুন আই জি, ইন্দিরা গান্ধী বা পিডিএম, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি বা এস এম সোমেন মিত্র? না শোনেন নি, শুনেছেন কমিউনিস্ট পার্টিতে, পিডিজি, প্রমোদ দাসগুপ্ত, বিবি, বিমান বসু, জেবি, জ্যোতি বসু, একেজি, এ কে গোপালন, হ্যাঁ পুরনো কমিউনিস্ট এক ধারা ছিল আর ছিল স্কুলে এ পি স্যর, বি সি ম্যাম ইত্যাদি। পলিটিক্যাল পার্টির মধ্যে এটা ছিল কেবল কমিউনিস্টদের প্রথা। প্রথা কি ফিরে এলো? আর যাই হোক উনি তো কমিউনিস্ট নন, কিন্তু যাই হোক, অভিষেক ব্যানার্জি থেকে এ বি এক রুপান্তর, এক মেটামরফোসিস, এক ভোলবদল। সেই ১৯৯৮ থেকে তৃণমূলের পথচলা, আজ অবদি কোনও তৃণমূল নেতা দলের আদর্শ নিয়ে কিছু বলেছেন? আচ্ছা বলাটাও কি জরুরি? না একেবারেই নয়, কারণ আদর্শ মুখে যাই বলুক না কেন, কাজে যে সেসব দেখা যায় না, তা তো আমরা জানি। আদর্শ তো এক ধারণা তৈরি করার, পার্সেপশন বিল্ডিং ইনস্ট্রুমেন্ট হয়ে গেছে এখন, যার ঠিকেদারি নিতে কেউই রাজি নয়। তবুও সব দলই তো একটা আদর্শের কথা বলে, আদর্শের তত্ত্বায়ন করে। তৃণমূলের সেসব দায় কোনও দিনও ছিল না, মমতা কখনও নিজেকে দক্ষিণপন্থী বলেছেন, কখনও গান্ধিবাদী বলেছেন, কখনও তাঁর অনুগামী ব্রাত্য বসু বা সুবোধ সরকার ওনার মধ্যে লেনিন কে দেখেছেন, বেশ কিছু তৃণমূল নেতা ওনাকে বামপন্থি আসল বামপন্থী বলেন, সদ্য দলে আসা প্রতিকুরও সেটাই বলেছেন, কিন্তু সেদিন প্রায় মিনিট দশ ধরে ঐ এ বি তৃণমূলের তত্ত্বায়ন করলেন, বললেন তৃণমূলের আদর্শ ওয়ালফেয়ারিজম, হ্যাঁ কল্যাণকামি মতবাদ। আছে, এই ওয়েলফেয়ারিজম নিয়ে দিস্তে দিস্তে লেখা আছে, কিন্তু সেদিন উনি যা বোঝাচ্ছিলেন তা হল মানুষের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, তার মধ্যেও সবথেকে গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এক ওয়েলফেয়ারিজম, সেটাই তৃণমূলের মতবাদ। সিপিএম সমেত বিপ্লবীরা শুনে হাসবেন, জাঙ্গিয়ার বুকপকেট, ধনেপাতার ক্যাশমেমো বলবেন। কিন্তু যদি একটু খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন সিপিএম দলের কর্মসূচির ১১২ /১১৩ ধারাতে নির্বাচনে জিতে রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নেবার ক্ষেত্রে পরিস্কার সেটাই লেখা আছে, গরীবস্য গরীব মানুষগুলোকে ন্যুনতম সুবিধে দেবার জন্যই এক বিপ্লবী দল সরকারে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সিপিএম এর আসল লক্ষ্য বিপ্লব, জণগণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি যাই থাকুকনা কেন, আপাতত লক্ষ্য কিন্তু সেই ওয়েলফেয়ারিজম, যা বলে the greatest amount of good for the greatest number হ্যাঁ সেদিন আমতলায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এ বি তৃণমূলের আদর্শের কথা তুললেন, বললেন ওয়েলফেয়ারিজমের কথা।
Информация по комментариям в разработке