একজন বাদশাহর দরবারে এক অজানা যুবক চাকরির জন্য হাজির হল।
যখন তার যোগ্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, সে বলল, “আমি রাজনীতি জানি।”
বাদশাহর দরবারে এমনিতেই প্রচুর রাজনীতিবিদ ছিল, তাই তাকে রাজকীয় ঘোড়ার আস্তাবলের দায়িত্ব দেওয়া হল।
কয়েক দিন পর বাদশাহ তার সবচেয়ে প্রিয় ও দামী ঘোড়াটির খোঁজ নিতে চাইলেন।
যুবকটি বলল, “এই ঘোড়ার কোনো বংশ নেই।”
বাদশাহ অবাক হয়ে গেলেন। তখন তিনি বনের এক সাধুকে ডেকে পাঠালেন।
সাধু জানাল, “ঘোড়াটি বংশবত অবশ্যই। তবে জন্মের সময় তার মা মারা গিয়েছিল, আর সে গরুর দুধ খেয়ে বড় হয়েছে।”
বাদশাহ তখন আবার যুবককে ডেকে বললেন, “তুমি কিভাবে বুঝলে যে এ ঘোড়া আসল বংশের নয়?”
যুবক বলল, “এই ঘোড়া ঘাস খাওয়ার সময় গরুর মতো নিচু হয়ে খায়। কিন্তু প্রকৃত রাজঘোড়া মুখে ঘাস নিয়ে মাথা উঁচু করে খায়।”
বাদশাহ তার প্রখর পর্যবেক্ষণশক্তি দেখে মুগ্ধ হন।
তাকে উপহারস্বরূপ চাল-গম, ঘি, খাসি, এবং দামি মাংস দেওয়া হয় এবং রানীর প্রাসাদে চাকরি দেওয়া হয়।
কিছু দিন পর বাদশাহ যুবকের কাছে রানীর বিষয়ে মতামত জানতে চাইলেন।
যুবক বলল, “ব্যবহার-আচরণে রানীর মতো ঠিকই, তবে তিনি রাজকন্যা নন।”
বাদশাহ স্তম্ভিত হলেন।
তত্ক্ষণাৎ তার মা’কে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন।
তিনি বললেন, “তোমার জন্মের সময় তোমার বাবার সঙ্গে একজন কাছের বন্ধুর মেয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সেই মেয়ে ছয় মাসেই মারা যায়। রাজপরিবারের সখ্যতা ধরে রাখতে আমরা এক সাধারণ মেয়েকে রাজকন্যা হিসেবে তুলে নিই।”
বাদশাহ আবার যুবককে ডাকলেন: “তুমি আবার কিভাবে বুঝলে?”
যুবক বলল, “তিনি তাঁর দাস-দাসীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেন, তা গেঁয়ো মেয়েদের থেকেও খারাপ।”
বাদশাহ তার তীক্ষ্ণ জ্ঞান দেখে আবার তাকে পুরস্কৃত করলেন—ভেড়া, গরু ও প্রচুর খাদ্যদ্রব্য।
এরপর বাদশাহ নিজেই জানতে চাইলেন, ‘আমার সম্পর্কে তোমার কী মত?’
যুবক বলল, “জানের নিরাপত্তা দিলে বলি।”
বাদশাহ প্রতিশ্রুতি দিলেন।
তখন যুবক বলল, “না আপনি রাজপুত্র, আর না আপনার আচরণ রাজাদের মতো।”
বাদশাহ ক্ষুব্ধ হলেও কথা দিয়ে ফেলেছিলেন, তাই গেলেন নিজের মায়ের কাছে।
মা বললেন, “সত্যি কথা—তুমি একজন গরিব রাখালের ছেলে। আমরা নিঃসন্তান ছিলাম, তাই তোমাকে পেয়ে বড় করেছি।”
বাদশাহ যুবককে ডেকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি এতসব কিভাবে জানলে?”
যুবক বলল, “রাজারা যখন কাউকে পুরস্কার দেন, তারা হীরা-মণি-রত্ন দেন।
কিন্তু আপনি যা দিয়েছেন তা সব খাওয়ার বা সাধারণ চাষার জিনিস—যেমন ভেড়া, দুধ, চাল ইত্যাদি।
এটা রাজপুত্রের ব্যবহার নয়, বরং একজন রাখালের সন্তানের মতো।”
তার উপসংহার ছিল: “চরিত্র ও আচরণ বংশ ও রক্তের পরিচয় দিয়ে দেয়।”
Информация по комментариям в разработке