ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে, কেয়ামতের পূর্বে এক ভয়ংকর জাতি আসবে যার নাম ইয়াজুজ মাজুজ।
ইসলামের ইতিহাসে ইয়াজুজ ও মাজুজ (Gog and Magog) এমন এক রহস্যময় ও ভীতিকর জাতির নাম, যাদের আবির্ভাব কেয়ামতের অন্যতম প্রধান আলামত। পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা কাহফ-এ এদের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে তাদেরকে তুরস্ক বংশোদ্ভূত এক বিশাল মানবগোষ্ঠী এবং পৃথিবীতে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী (ফাসাদকারী) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এদের সংখ্যা এত বিপুল হবে যে, এদের সামনে সমগ্র মানবজাতিকে অসহায় অবস্থায় পড়তে হবে। হাজার হাজার বছর আগে, পৃথিবীর ক্ষমতাধর বাদশাহ জুলকারনাইন (Dhul Qarnayn) এক জনপদের অনুরোধে লোহা, গলিত তামা ও অন্যান্য ধাতব পদার্থ ব্যবহার করে দুটি পাহাড়ের মাঝখানে এক বিশাল ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর (Iron Wall) নির্মাণ করে তাদের পৃথিবীতে ফাসাদ করা থেকে অবরুদ্ধ করে দেন। এই প্রাচীর এতটাই মজবুত যে, তারা প্রতিদিন ভাঙার চেষ্টা করেও সফল হয় না। প্রতিবার তারা যখন প্রাচীরটি ভাঙার খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন তাদের সর্দার বলে, 'কাল এসে বাকিটা ভাঙব।' কিন্তু 'ইনশাআল্লাহ' না বলার কারণে আল্লাহ্র হুকুমে প্রাচীরটি পূর্বের মতোই মজবুত হয়ে যায়।
তাদের এই অন্তরীণ দশা স্থায়ী হবে না। ইয়াজুজ মাজুজের বেরিয়ে আসা কেয়ামতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বড় আলামত, যা ইমাম মাহদি ও দাজ্জালের আবির্ভাবের পর যখন ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, তখনই ঘটবে। কেয়ামতের খুব কাছাকাছি সময়ে, একদিন তাদের সর্দার আল্লাহ্র ইচ্ছায় 'ইনশাআল্লাহ' বলে পরের দিন এসে প্রাচীরটি ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসবে। প্রাচীর থেকে মুক্ত হয়ে তারা পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। তাদের সংখ্যা এত বেশি হবে যে, তারা যে কোনো জলাশয়ের পাশ দিয়ে গেলেই তা পান করে শুকিয়ে ফেলবে; এমনকি তাদের শেষ দলটি এসে বলবে, "এইখানে একসময় পানি ছিল।" তারা ফসলের ক্ষেত ও জনপদে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব সৃষ্টি করবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নবী ঈসা (আঃ) তখন মুমিনদেরকে নিয়ে তূর পর্বতে আশ্রয় নেবেন এবং খাদ্যের জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করবেন।
তবে তাদের এই তাণ্ডব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আল্লাহ্র কুদরতে তাদের ধ্বংস হবে এক অলৌকিক উপায়ে। ঈসা (আঃ)-এর দোয়ার ফলে আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াজুজ মাজুজ জাতির ঘাড়ে 'নাগাফ' (বা পশুপাখির এক প্রকার পোকা) নামক এক ধরনের পোকা সৃষ্টি করবেন। এই পোকাগুলোর আক্রমণের ফলে তারা মুহূর্তের মধ্যে সকলে মারা যাবে। তাদের মৃতদেহগুলো এত বিপুল পরিমাণে পড়ে থাকবে যে, পৃথিবীতে এক ইঞ্চি জায়গাও খালি থাকবে না। এরপর ঈসা (আঃ) এবং মুমিনদের দোয়ায় আল্লাহ্ তা'আলা বড় বড় পাখি পাঠাবেন, যারা তাদের মৃতদেহগুলো তুলে দূরে নিক্ষেপ করবে। অবশেষে আল্লাহ্র আদেশে এমন বৃষ্টি হবে যে, পৃথিবীর সমস্ত ময়লা ও দুর্গন্ধ ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। ইয়াজুজ মাজুজের এই সম্পূর্ণ ঘটনা মানবজাতিকে কেয়ামতের নিকটবর্তীতা এবং আল্লাহ্র অসীম কুদরত সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়। আমাদের উচিত শেষ জমানার ফিতনা থেকে রক্ষা পেতে সদা সতর্ক থাকা এবং ঈমানের ওপর অবিচল থাকা, আমিন।
ইয়াজুজ মাজুজ, গগ ও ম্যাগগ, কেয়ামতের আলামত, শেষ জমানা, ইসলামিক ইতিহাস, পবিত্র কুরআন, সূরা কাহফ, জুলকারনাইন, লোহার প্রাচীর (Iron Wall), ইসলামিক আর্ট, এপোক্যালিপ্স, বাদশাহ জুলকারনাইন (Dhul Qarnayn), নবী ঈসা (আঃ) (Prophet Isa / Jesus), ইমাম মাহদি (Imam Mahdi), দাজ্জাল (Dajjal), তূর পর্বত (Mount Tur), নাগাফ পোকা (Naghaf Insect), প্রাচীর নির্মাণ, ফাসাদ সৃষ্টিকারী, পৃথিবীর বিশৃঙ্খলা, কেয়ামতের নিকটবর্তীতা, ঐশ্বরিক ধ্বংস, বিশাল মানবগোষ্ঠী, ইনশাআল্লাহ, দৈবশক্তি
#YajujMajuj, #GogAndMagog, #SignsOfTheHour, #EndOfTimes, #IslamicProphecy, #AkhirZaman, #SurahKahf, #DhulQarnayn, #Keamot, #IslamicHistory, #VisualStorytelling, #PicturePrompt, #DigitalArtIdea, #ConceptArt, #FantasyArt, #EpicScene, #IronWall, #ইসলামেরইতিহাস, #কেয়ামত, #ইয়াজুজমাজুজ, #শেষজমানা, #ঈসাআঃ, #কুরআনুলকারিম
Информация по комментариям в разработке