আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ এর লক্ষ্মীপুরের চার আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলার চারটি আসনে মোট ২৮জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার সকাল ১০টা থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর ১ আসন থেকে আনোয়ার হোসেন খাঁন (আওয়ামী লীগ) নৌকা, এমএ গোফরান (স্বতন্ত্র) কেটলী, নিয়াজ মাগদুম ফারুকী (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) মোমবাতি, মোসারফ হোসেন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) আম, মো. মাহমুদুর রহমান মাহমুদ (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, হাবিবুর রহমান পবন (স্বতন্ত্র) ঈগল প্রতীক বরাদ্দ পান।
লক্ষ্মীপুর ২ আসন থেকে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (তৃণমূল বিএনপি) সোনালী হাঁস, চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনা (স্বতন্ত্র) তরমুজ, জহির হোসেন (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি) একতারা, অ্যাডভোকেট নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন (আওয়ামীলীগ) নৌকা, বোরহান উদ্দিন আহমেদ (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, আমির হোসেন (জাসদ) মশাল, ইমাম উদ্দিন সুমন (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট) ছড়ি, ফরহাদ মিয়া (স্বতন্ত্র) হাতঘড়ি, মো. মুনসুর রহমান দাদন গাজী (বাংলাদেশ কংগ্রেস জোট) ডাব, মো. মোরশেদ আলম (ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ) চেয়ার, মো. শরিফ হোসেন (বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট) মোমবাতি প্রতীক বরাদ্দ পান।
লক্ষ্মীপুর ৩ আসন থেকে এমএ সাত্তার (স্বতন্ত্র) ট্রাক, গোলাম ফারুক (আওয়ামী লীগ) নৌকা, মুহাম্মদ রাকিব হোসেন (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, মো আব্দুর রহিম (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) কাঁঠাল, নাঈম হাসান (তৃণমূল বিএনপি) সোনালী হাঁস, মো. মাহবুবুল করিম (বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি) হাতুড়ী প্রতীক বরাদ্দ পান।
এবং লক্ষ্মীপুর ৪ আসন থেকে ইস্কান্দার মির্জা শামীম (স্বতন্ত্র) ট্রাক, মাহমুদা বেগম (স্বতন্ত্র) তবলা, মোসারফ হোসেন (জাসদ) নৌকা, মো. সোলেমান (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি) একতারা, মো. আব্দুল্লাহ (স্বতন্ত্র) ঈগল প্রতীক বরাদ্দ পান।
এদিকে রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর এক আবেদনে ১৪ দলীয় জোটভুক্ত প্রার্থী হিসেবে মোশারফ হোসেনকে লক্ষ্মীপুর ৪ আসনের নৌকা প্রতীক বরাদ্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনার সরকার সব সময় উন্নয়নের পক্ষে ছিলো। বিশেষ করে গ্রামের দিকে। আমি জয়ী হয়ে রামগতি-কমলনগরের মেঘনার ভাঙন রোধসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে করতে চাই।
লক্ষ্মীপুর ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান পবন সংশয় নিয়ে বলেন, হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। তবুও আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও নির্বাচন কমিশনের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছি।
লক্ষ্মীপুর ২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, আমার প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখে নৌকা প্রতীকটি উপহার দিয়েছেন। আমি নির্বাচনের আচরণ বিধি মেনে নির্বাচন করবো। এ আসনের সকল প্রার্থীর সাথে আমাদের সোহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জনগন যে রায় দিবে, আমরা তা মাথাপেতে নেবো।
নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দর সাথে সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর আচরণ বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান।
তিনি জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৪ এর সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে। মাইকে প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩টি মাইক (হর্ণ) ব্যবহার করতে পারবেন।
ক্যাম্প পরিচালনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রার্থীরা প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে প্রচারণার জন্য ক্যাম্প করতে পারবেন। পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে। তবে ক্যাম্প এর সাইজ কোন ভাবেই ৪০০ (চার শত) বর্গফুট এর উপরে হতে পারবে না।
পোস্টার লাগানো বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, আঠা দিয়ে কোন দেয়াল, পিলার বা যানবাহনে কোন পোস্টার লাগানো যাবেনা। সাদাকালো পোস্টার রশিতে ঝুলিয়ে প্রচারণা করা যাবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরাইয়া জাহান সকলকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
Информация по комментариям в разработке