#kolkata to lucknow
#roadtrip to lucknow
#roadtrip
"মুসকুরাইয়ে আপ লখনৌ মে হে"...
কথাটা এতই প্রচলিত যে ডাব ওয়ালা, টোটোওয়ালা সবারই মুখে মুখে ঘোরে। তাই নবাবের শহরে নবাবী করতে গিয়ে তাদের কথায় কথায় কমপক্ষে 100/- টোটোভাড়া দিতে দিতে মুখে হাসি না ফুটলেও টুন্ডে কাবাবি আর মুঘলস্ দস্তরখানে পেটপুরে খেয়ে প্রচলিত কথাটার মর্মার্থ বুঝতে পারলাম, আহা, ঐ স্বাদে আহ্লাদে মুখে হাসি ফুটতে বাধ্য। পূজার অন্তিম লগ্নে 23.10.2023 তারিখে কোলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে তে ঠোক্কর খেতে খেতে ধানবাদের পরে ঝাড়খণ্ডের রাস্তায় উঠে মুখে প্রথম হাসি ফুটলো। সামনে তখন মসৃন পিচ কালো রাস্তা, নিমেষেই পেরিয়ে গেলাম শঙ্কু সাহেবের গিরীডি, পরেশনাথ, তোপচাচী। ঝাড়খণ্ডে পেট্রোলের দাম 6/- কম হওয়ায় গাড়িতে ফুলট্যাঙ্ক অটো কাট্ করে এগিয়ে চললাম।পথ চলতি ধাবাতে ভেজ থালি খেয়ে এরপর বিহারের রাস্তায় কাজের জন্যে ব্রেকডান্স করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। অন্ধকারে মনে হলো সন্ধ্যা 6 টায় রাত 10 টা বাজে, এদিকে বেশ শীতের শিরশিরানি চলে এসেছে। "সো গ্যায়া ইয়ে জাহা" গানটা আওরাতে আওরাতে রাত 10 টায় বিহারের ঔরঙ্গাবাদে হোটেল বৈষ্ণবীহাইটস্ এ চেক ইন করে ভেজ খাবার দিয়ে ডিনার করে ঘুমের দেশে।হোটেল টা একদম হাইওয়ের ধারে ছিমছাম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, দড়দাম করে ভাড়া পড়লো 1800/- আর রাতের ডিনার 400/-। পরেরদিন সকালে বেরিয়ে দেহরি ওন শোন ও তারপরে গঙ্গা পেরিয়ে কিছুটা এগিয়েই পেয়ে গেলাম 340km বিখ্যাত পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, ব্যস আর কি চাই, ঐ রকম রাস্তায় গাড়ি চালানোর স্বপ্নটা সত্যিতে পরিণত করলাম। 100km অন্তর ফুড জয়েন্টে লাঞ্চ সেরে আবার এগিয়ে চললাম। পায়ের নিচে পেলাম 3.2km লম্বা এমার্জেন্সি ল্যান্ডিং এয়ার স্ট্রিপ, এই অভিজ্ঞতা সারা জীবনেও ভোলার নয়।
সন্ধের পরে পৌঁছে গেলাম লখনউ, শহরের মধ্যেই হোটেল দীপ প্যালেসে চেক ইন্ করে গাড়ি পার্কিং করেই টোটো ধোরেই সোজা আমিনাবাদ, গন্তব্য টুন্ডে কাবাবি। এদিকে লখনউ তে ঢোকার পর থেকেই খিদেটাও কেমন যেন বেড়ে গেছে, পেটের মধ্যে 20 টা ইদুর লাফাচ্ছে, তাই গরম ধোঁয়া ওঠা গলৌটি কাবাবের সাথে পরোটা দিয়ে উদরপূ্র্তি করলাম। সত্যি ই ঐ স্বাদের কোনো বর্ননা লেখা যায় না, নিজে চেখে তবেই উপলব্ধি করা যায়। ও এই আমিনাবাদ আবার চিকনকারি কাজের জন্য ভারত বিখ্যাত। পরের দিন আবার টোটো ভাড়া করে টো টো করে ঘুরে বেড়ালাম রেসিডেন্সি, বড়া ইমামবাড়া, ভুলভুলাইয়া, ছোটা ইমামবাড়া, গদর 1/2 সিনেমা খ্যাত রুমি দরওয়াজা, শাহি তালাও, ঘন্টাঘর,পিকচার গ্যালারি- সে আমি আর নবাবদের কি ছবি দেখবো উল্টে তারাই কেউ আমাকে কটমট্ করে দেখছে, কারো নাগরাই জুতো ঘুরছে, তো কেউ হাতের তরবারি ঘোরাচ্ছে, হাইলি সাসপিসাস্ ব্যাপার মশাই, ভারি দুস্টুলোক, কোনোরকমে সব দেখে টোটোতে উঠেই মুঘলস্ দস্তরখান। নাঃ খিদে টা সত্যিই বেড়ে গেছে, অবশ্য সেটা বউ এর ঠান্ডা কঠিন চাউনিতেই টের পাচ্ছিলাম। যাই হোক দস্তরখানের মটন্ বিরিয়ানী আর চিকেন কোরমা মুখে ঢুকতেই মনে হলো স্বর্গে চলে এসেছি, অসম্ভব তুলতুলে নরম মাংস ও সমানুপাতিক আ্যরোমার মিশ্রণের ঐ স্বাদের কোনো ভাগ হয় না। সেদিন রাতে আবার টুন্ডে কাবাবিতে স্বাদ পূরণ করে পরের দিন সকালে বেরিয়ে পরলাম পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
Toll Tax Purvanchal Expressway = 685/-
প্রসঙ্গত বলি লখনউ এর হোটেল দীপ প্যালেস একদম শহরের মাঝখানে অবস্থিত, দরদাম করে ভাড়া পরলো সকালের জলখাবার সহ 2000/-। বেশ বড় হোটেল, সুবিশাল খোলা পার্কিং, পরিচ্ছন্ন রুম, টয়লেট, স্টাফদের ব্যবহার মার্জিত। গুগলের মাধ্যমে হোটেলটি খুঁজে পাই।
Информация по комментариям в разработке