পরিবর্তন যাত্রা, মানে সেই নতুন বোতলে পুরনো মদ নিয়ে হাজির বিজেপি, আর কদিন পর থেকে শুরু হবে তাঁদের রথযাত্রা, রথ না চালালে তাঁদের বিষ ছড়াতে অসুবিধে হয়, ২০২৬ এ দাঁড়িয়ে চীন ইলেক্ট্রিক ভেহিকল এ একনম্বরে, আমাদের এখানে পার্টস অ্যাসেম্বলিং চলছে, সেই বাজারে বিজেপি ট্রাকের ওপরে রাংতা লাগিয়ে রথ তৈরি করে মধ্যযুগে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে দেশ কে। আর সেই পূণ্য বিষছড়ানো কর্মসূচির আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বাংলার মানুষজনকে খোলা চিঠি দিয়েছেন, যথারীতি একঝুড়ি মিথ্যে আর বিষ মাখানো এক চিঠি। পড়েই মনে হল, সে চিঠি আপনাদের কাছে পৌঁছনোর আগেই তার একটা জবাব দেওয়া টা বড্ড জরুরি। এমনিতে সবাই ইতিমধ্যেই জেনে ফেলেছেন যে উনি গঙ্গায় ভাসমান ইয়ে, জোয়ারে আসেন, ভাটায় চলে যান। সময়ে সুযোগে বেশ বদল করেন আর কথা বার্তা বদলে যায়। এমনিতে এমন কি এই বঙ্গেও বহুবার এসে সেই হাঁক পেড়েছেন, জয় শ্রীরাম, এক পিলে চমকানো চিৎকার। এক যুদ্ধ শুরুর শ্লোগান। কিন্তু ওনাকে এতবার হারার কারণ হিসেবে কেউ হয়তো বলেছে এই বাংলাতে মা কালীই অনেক বেশি পপুলার আর মাতৃশক্তির আরাধনাই শত্রু নিধনের পথ, তো সেই কারণেই উনি চিঠি শুরু করেছেন জয় শ্রী রাম দিয়ে নয়, জয় মা কালি বলে, মানে হে ভক্তগণ, এবার থেকে জয় মা কালি বলা প্রাকটিস করুন, শুভেন্দু বাবুও করছেন, পিতার আদেশ বলে কথা। কিন্তু সমস্যা হ্যাজ, সমস্যা হল ধরুন মমতা যাচ্ছেন কনভয় নিয়ে, বা পদযাত্রা করছেন, আগে এক পিলে চমকানো চিৎকার করতেন, জয় শ্রী রাম, শুরুর দিকে তা শুনে মমতা তাঁর প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন, কিন্তু এবারে কী বলবেন? জয় মা কালি? রিয়েলি, মমতা এলেই চিৎকার হবে জয় মা কালি, আহা সে দৃশ্য ক্যামেরায় ধরে পাঠালে প্রথমজনকে হাজার টাকা পুরস্কার আমিই দেবো। তো জয়মা কালী দিয়ে শুরু করেই তিনি চলে গেছেন আদত কথায়, লিখেছেন আমার স্বপ্নের সোনার বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা আজ চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁদের যন্ত্রণায় আমার হৃদয়ও আজ ভারাক্রান্ত। তাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমি একটিই সংকল্প গ্রহণ করেছি, পশ্চিমবঙ্গকে 'বিকশিত' ও সমৃদ্ধ করে তোলার সংকল্প। তাই নাকি? মানে ১৪ বছর পরে আপনি এতদিনে বাংলাকে সোনার বাংলা তৈরি করার সংকল্প নিলেন? গত আর্থিক বছরে নিতী আয়োগের হিসেবে সবথেকে কম বরাদ্দ এই বাংলার জন্য, বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ নামটাই নেই, ২০২২ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার একটা টাকা আসেনি, প্রান্তক গরীব মানুষের মনরেগার টাকা, কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে দিল্লির কাছে, একের পর এক কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সদর দপ্তর পরিকল্পনা করেই অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ইচ্ছে করেই পাট শিল্পের আধুনিকীকরণ আটকে রাখা হয়েছে। আপনি ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে ভড়ংবাজী করতে এসেছেন, এতদিনে আপনার সংকল্প নেবার ইচ্ছে হল? কেন? এর আগেও তো এসেছেন, সুনার বাংলার কথা বলেছেন, তখন সংকল্প নেন নি কেন? বিহারকে স্পেশ্যাল প্যাকেজ, অন্ধ্রপ্রদেশকে হাত উপুড় করে প্যাকেজ দিচ্ছেন কারণ বিহার আর অন্ধ্রের রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে বিদেশের ফুর্তিফার্তাও বন্ধ হবে, আর বাংলার বেলায় লবডঙ্কা দিয়ে এতদিন পরে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো ঠিক নির্বাচনের আগে? উনি মুখে যেমন অনর্গল মিথ্যে বলেন, চিঠিতেও ঠিক তাই, লিখেছেন রাজ্য সরকারের চরম অসহযোগিতা ও বৈরিতা সত্ত্বেও, আজ পশ্চিমবঙ্গের ৫ কোটি মানুষ কেন্দ্রীয় 'জন-ধন যোজনা'র মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতাভুক্ত হয়েছেন। যাঃ শালা, আপনি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট করবেন, তো রাজ্য সরকার কোন পদ্ধতিতে তাকে আটকাতে পারে? যা খুশি বললেই হলো? এই জন ধন যোজনার অ্যাকাউন্টের প্রায় ২০% নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে আছে, প্রায় ১৩% জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্ট। মানে তাঁদের পক্ষে একটাকাও ব্যাঙ্কে রাখা সম্ভব হয় নি, প্রায় ৪৭% অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকার বেশি জমাই নেই। কোন বিশাল কাজ করেছেন আপনি? আমাদের মোদিজীর মিথ্যে হল সত্যি আর মিথ্যের মিশেল, বলেছেন 'স্বচ্ছ ভারত অভিযানে'র মাধ্যমে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ শৌচালয় নির্মাণ সম্ভব করেছি আমরা। তো এটা বলুন যে সেই প্রকল্পের ৪০% জুগিয়েছে রাজ্য সরকার, হ্যাঁ আপনারা ৬০% দিয়েছেন, ৪০% দিয়েছে বাংলার সরকার আর বুক চাপড়াচ্ছেন উনি একলা? পার্টনারশিপের ব্যবসাকে নিজের বলে চালায় জালি লোকজন, এটা সব্বাই জানে। তারপরে লিখেছেন রাজ্যের শাসকদল যখন দরিদ্র মানুষের অন্নসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, তখন আমরা ছোট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ২.৮২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি৷ উরিব্বাস, তো ঐ ভিক্ষের ২.৮২ কোটি টাকাটাও ফেরত নিয়ে যান,হিসেবটা শুনুন, উত্তর প্রদেশ কত পেয়েছে? ১২৫.৪১ কোটি টাকা, গুজরাট? ১২৬ কোটি টাকা, অন্ধ্রপ্রদেশ ৯৩ কোটি টাকা, মহারাষ্ট্রপ্রায় ৫০ কোটি টাকা, তালিলনাড়ু ৪৫ কোটি টাকা বিহার ৪৪ কোটি টাকা আর বাংলা? ২.৮২ কোটি টাকা, সেটা আবার চিঠি লিখে জানাচ্ছেন? এখানে ব্যবসা করলে এম এস এম ই র লোন পাওয়াই যাবে না, হ্যাঁ অলিখিতভাবে এটাই ঘোষণা, আর তার ফল, বিহার পায় ৪৪ কোটি আর বাংলার জোটে ২.৮২ কোটি, সেটাও আবার তিনি সুনার বাংলা গড়ার সংকল্প নিয়েছেন বলে। 'অটল পেনশন যোজনা'য় ৫৬ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে বার্ধক্যেও স্বনির্ভর করতে পেরে আমি আজ কৃতার্থ। যিনি দেড় লক্ষ টাকার চশমা আর এক লক্ষ টাকার পেন ব্যবহার করেন, তিনিই এরকম নির্বোধ তামাশা করতে পারেন। ১) অটল পেনশন যোজনা, প্রিমিয়ামের টাকাতেই হয়, মানে আপনাকে একটা সময় ধরে প্রিমিয়াম দিতে হবে, তারপর আপনি পেনশন পাবেন, ৬০ বছর পার করলে আপনি পেনশন পাবেন। ধরা যাক আপনার বয়স ১৮ বছর, আপনাকে মাসে মাসে ৪২ টাকা করে দিতে হবে, আপনি ৬০ বছরে পা দিলে প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে পাবেন। মানে ২০২৫ এ প্রতি মাসে ৪২ টাকা করে দিলেন, আপনি ২০৮৫ তে মাসে ১০০০ টাকা করে পাবেন, থিয়েটারের ডায়ালগ শুনেছিলাম, ওরে পদা এই হারামীটা মূল্যবৃদ্ধির মানে জানে না, হ্যাঁ সেটাই বলতে ইচ্ছে করছে সেটাই, বলছিনা কারণ আফতার অল উনি হলেন গিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো সেখানেও উত্তর প্রদেশের সংখ্যা ১.৩৫ কোটিও, বিহারের সংখ্যা ৮০ লক্ষের বেশি আর বাংলাতে উনি জানাচ্ছেন ৫৬ লক্ষ।
Информация по комментариям в разработке